দেশের অন্ধকার দিনগুলিকে কখনই ভোলা যাবে না, মোদী
দি নিউজ লায়ন; ১৯৭৫ সালের আজকের দিনে ভারতের বুকে ততকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। যা ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসাবে আজও চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। সেই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে ততকালীন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেন দেশজুড়ে। ওই এক সিদ্ধান্তে খর্ব করা হয় গোটা দেশবাসীর বাক স্বাধীনতা। রাতারাতি গ্রেফতার করা হয় দেশের প্রথম সারির বিরোধী রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের।
দেশে দীর্ঘ ১১ মাস ধরে জারি থাকে এই জরুরি অবস্থা। দেশে সেই জরুরি অবস্থার ৪৬ তম বর্ষপূর্তিতে কংগ্রেসকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ট্যুইটারে তিনি লেখেন, দেশে জরুরি অবস্থার ওই অন্ধকার দিনগুলিকে কখনই ভোলা যাবে না। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলি নিয়মতান্ত্রিক ধ্বংসের সাক্ষী থেকেছে। তবে অতীতের সেই অন্ধকার দিনগুলিকে পিছনে ফেলে আগামী দিনে ভারতের গণতান্ত্রিক চেতনাকে শক্তিশালী করার ডাক দেন তিনি।
মোদী বলেন, ভারতের সংবিধানের মূল্যবোধ বজায় রাখার জন্য শপথগ্রহণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাও এদিন নিশানা করেন কংগ্রেসকে। তাঁরা বলেন, ওই সময়টা ভারতের গণতন্ত্রের একটি কালোওধ্যায়। অত্যাচার সহ্য করেও গণতন্ত্রের স্বার্থে লড়াই করে যাওয়া মানুষজনকে আমরা শ্রদ্ধা জানাই।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের লোকসভা নির্বাচনে রায়বরেলি ছিল ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচনী কেন্দ্র। প্রতিপক্ষ রাজনারায়ণ তাঁর কাছে হেরে যান। কিন্তু তারপরই ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে দূর্নীতির অভিযোগ তুলে এলাহাবাদ হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলাতেই দোষী সাব্যস্ত হন ইন্দিরা গান্ধী। পাশাপাশি ৬ বছরের জন্য তাঁকে সংসদীয় রাজনীতি থেকে বহিষ্কার করেন।
তারপর সেই মামলা যায় সুপ্রিম কোর্টে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা আইয়ার বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারেন ইন্দিরা। কিন্ত ভোট দিতে পারবেন না। পাশাপাশি জানানো হয় তিনি কোনও বেতনও নিতে পারবেন না। এই রায়ের পরই রাতারাতি ইন্দিরা গান্ধী রাষ্ট্রপতির মারফত জরুরি অবস্থা জারি করেন। সেই দিনটাই ছিল ২৫ জুন ১৯৭৫।

Post a Comment